আসেন, একটা গল্প বলি।
দুই পরিবার পাশাপাশি বাস করতো। মোটামুটি জমিজমা আছে, স্বচ্ছল। উৎসব-আনন্দে সেমাই আর গরুর মাংস আদান-প্রদান হতো। ভালো কোন তরকারী রান্না হলে পৌঁছে যেতো অন্য ঘরে। খুব গলাগলি খাতির ছিলো না, কিন্তু ঝগড়াঝাটি হয়নি কখনো। বাচ্চাকাচ্চারা খেলতো মজা করে। বড়রা খুশি খুশি ভাব নিয়ে চোখে চোখে রাখতো, কিন্তু ছোটদের দুষ্টুমিতে কখনো সম্পর্কের পারদ ওঠানামা করেনি।
একদিন গ্রামের মাতব্বর এলেন। বসতে দেয়া হলো। এই দুই পরিবারের বিচার সালিশ করতে পারেননি তিনি। মনে বড় দুঃখ আকুলিবিকুলি করে। হঠাৎ দেখতে পেলেন অন্য ঘরের মুরগি বেড়া টপকে এ পাশে এসে সদ্য ধুয়ে রাখা চালের ঝাঁজর উল্টে দিলো। মাতব্বর হায় হায় করে উঠলেন! কি বজ্জাত মানুষগুলো! এইভাবে হাঁস-মুরগী কেউ ছেড়ে রাখে? কতবড় ক্ষতি হয়ে গেলো? এরা এখন খাবে কি? ঐ বজ্জাত মানুষগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা উচিত!
পানের খিলিটা মুখের ভেতর গুঁজে দিয়ে মুরগীওয়ালাদের ডাকলেন। ঘরের মহিলা
বাধা দিলেন। থাক! দরকার নাই। আমি ধুয়ে আবার রান্না বসাবো। মুরগীকে তো আর
কেউ শিখিয়ে দেয়নি? মাতব্বর ত্যাড়া চোখে তাকিয়ে বললেন, বলছো কি? এরা তো লাই
পেয়ে মাথায় উঠবে! আজ মুরগী লেলিয়েছে, কাল কুকুর লেলিয়ে দেবে!
প্রতিবেশীর লজ্জায় মাথা হেঁট। একটা মুরগীর কারণে আজ এতো কথা শুনতে হলো! বললেন, মুরগীটা জবাই দিয়ে দেবো আজ। মাতব্বর সাব, আপনার দাওয়াত। মাতব্বর খেঁকিয়ে উঠলেন, ওহ্! এদেরকে অপমান করছো সুযোগ পেয়ে? এরা কি আমাকে না খাইয়ে রেখেছে নাকি? মহিলাদের অহমে লাগলো। এক কথা দু'কথায় ঝগড়ায় রূপান্তরিত হলো গোটা ব্যাপারটা। মাতব্বর মুচকি হেসে সরে পড়লেন।
রাতে দুই পরিবারের পুরুষরা ঘরে ফিরে সব জানলেন। তিল তাল হয়েছে, তেলাপোকা হাতি হয়েছে বর্ণনায়। ঝগড়া এবার লাঠালাঠিতে রূপান্তরিত হলো। রাতেই বিচার গেলো মাতব্বরের দরবারে। তিনি এলেন। সব শুনে দুই পক্ষকেই দোষারোপ করলেন এবং বললেন, এইটা এখন আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তোমরা আদালতে যাও। দুই পক্ষের কেউ আইন-আদালত চেনে না। মাতব্বর দয়াপরবশ হয়ে দুই পক্ষেরই অভিভাবক সাজলেন। মামলা, উকিল, আদালতের বারান্দায় দেদারসে খরচ হতে লাগলো। মাতব্বরের গোঁফ দিনদিন চটকদার আর তেলতেলে হচ্ছে।
দিন যায়, মাস যায়। মামলার হাজিরা পড়ে প্রতি সপ্তাহে। জমিজমা, গয়নাগাটি বেচা শেষ। মাতব্বর দয়া করে এই দূর্দিনে টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন খুব কম দামে হলেও। দয়ার শরীর তার!
রায়ের তারিখ পড়েছে। নিজেদের পক্ষে যাবে, মাতব্বর সাব আশ্বাস দিয়েছেন। মাটির ব্যাংক আর বাঁশ ছিদ্র করে জমানো কিছু টাকা ছিলো দুই ঘরেই। সেগুলো নিয়ে ঘোষের মিষ্টির দোকান থেকে কয়েক কেজি করে মিষ্টি কেনা হলো। মাতব্বর সাবের বাসায় পাঠাতে হবে। অন্যদেরও খাওয়াতে হবে।
জজ সাব এজলাসে বসে চারদিকে তাকিয়ে বললেন, মুরগী চাল উল্টে দিয়েছে- এ জন্য কাউকে জেল দেয়া যায় না। মুরগীর মালিককে ১ কেজি চাল জরিমানা করা হলো! চালের মালিককে বুঝিয়ে দেয়া হোক! মামলা ডিসমিস।
মাতব্বর চালের মালিকের পিঠ চাপড়ে দিলেন। সাবাস, তুমিই জিতেছো। মুরগীর মালিককে গিয়ে বললেন, ১ কেজি চালই তো! কলা চুরিতে ফাঁসি হয় না। তোমার এমন কি লোম ছেঁড়া গেছে? দাও, মিষ্টি খাই।
.
.
.
রং মেশানো এই ঘটনার সাথে কেউ হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি আওয়ামী লীগ মেশাতে পারেন, ব্যক্তিগত জীবনও মিশিয়ে দেখতে পারেন!
আজ ৫ মে যারা ইসলামের অবমাননার প্রতিবাদে জীবন দিয়েছেন, আমার পক্ষ থেকে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
প্রতিবেশীর লজ্জায় মাথা হেঁট। একটা মুরগীর কারণে আজ এতো কথা শুনতে হলো! বললেন, মুরগীটা জবাই দিয়ে দেবো আজ। মাতব্বর সাব, আপনার দাওয়াত। মাতব্বর খেঁকিয়ে উঠলেন, ওহ্! এদেরকে অপমান করছো সুযোগ পেয়ে? এরা কি আমাকে না খাইয়ে রেখেছে নাকি? মহিলাদের অহমে লাগলো। এক কথা দু'কথায় ঝগড়ায় রূপান্তরিত হলো গোটা ব্যাপারটা। মাতব্বর মুচকি হেসে সরে পড়লেন।
রাতে দুই পরিবারের পুরুষরা ঘরে ফিরে সব জানলেন। তিল তাল হয়েছে, তেলাপোকা হাতি হয়েছে বর্ণনায়। ঝগড়া এবার লাঠালাঠিতে রূপান্তরিত হলো। রাতেই বিচার গেলো মাতব্বরের দরবারে। তিনি এলেন। সব শুনে দুই পক্ষকেই দোষারোপ করলেন এবং বললেন, এইটা এখন আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তোমরা আদালতে যাও। দুই পক্ষের কেউ আইন-আদালত চেনে না। মাতব্বর দয়াপরবশ হয়ে দুই পক্ষেরই অভিভাবক সাজলেন। মামলা, উকিল, আদালতের বারান্দায় দেদারসে খরচ হতে লাগলো। মাতব্বরের গোঁফ দিনদিন চটকদার আর তেলতেলে হচ্ছে।
দিন যায়, মাস যায়। মামলার হাজিরা পড়ে প্রতি সপ্তাহে। জমিজমা, গয়নাগাটি বেচা শেষ। মাতব্বর দয়া করে এই দূর্দিনে টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন খুব কম দামে হলেও। দয়ার শরীর তার!
রায়ের তারিখ পড়েছে। নিজেদের পক্ষে যাবে, মাতব্বর সাব আশ্বাস দিয়েছেন। মাটির ব্যাংক আর বাঁশ ছিদ্র করে জমানো কিছু টাকা ছিলো দুই ঘরেই। সেগুলো নিয়ে ঘোষের মিষ্টির দোকান থেকে কয়েক কেজি করে মিষ্টি কেনা হলো। মাতব্বর সাবের বাসায় পাঠাতে হবে। অন্যদেরও খাওয়াতে হবে।
জজ সাব এজলাসে বসে চারদিকে তাকিয়ে বললেন, মুরগী চাল উল্টে দিয়েছে- এ জন্য কাউকে জেল দেয়া যায় না। মুরগীর মালিককে ১ কেজি চাল জরিমানা করা হলো! চালের মালিককে বুঝিয়ে দেয়া হোক! মামলা ডিসমিস।
মাতব্বর চালের মালিকের পিঠ চাপড়ে দিলেন। সাবাস, তুমিই জিতেছো। মুরগীর মালিককে গিয়ে বললেন, ১ কেজি চালই তো! কলা চুরিতে ফাঁসি হয় না। তোমার এমন কি লোম ছেঁড়া গেছে? দাও, মিষ্টি খাই।
.
.
.
রং মেশানো এই ঘটনার সাথে কেউ হেফাজত-জামায়াত-বিএনপি আওয়ামী লীগ মেশাতে পারেন, ব্যক্তিগত জীবনও মিশিয়ে দেখতে পারেন!
আজ ৫ মে যারা ইসলামের অবমাননার প্রতিবাদে জীবন দিয়েছেন, আমার পক্ষ থেকে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন